অর্থনৈতিক সংকট আর বিক্ষোভের মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় নববর্ষ উদযাপন

অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভের মধ্যেই নববর্ষ উদযাপন করেছেন দেশটির নাগরিকরা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে, চলমান পরিস্থিতে শ্রীলংকার ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের বড় দুটি ক্রেটিড রেটিং সংস্থা।

স্লোগানে স্লোগানে মুখর শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ভবনের আশপাশ। পদত্যাগের দাবি দিনকে দিন জোরালো হলেও মানতে নারাজ প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।

চলমান সংকটের মধ্যেই দেশিয় রীতিতে নববর্ষ পালন করেছেন লঙ্কানরা। আন্দোলনস্থলে কাঠের টুকরো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ছোট্ট একটি পাত্রে দুধ গরম করে নববর্ষকে বরণের আনুষ্ঠানিকতা সারেন বাসিন্দারা। 

প্রতিবছর উৎসবের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করা হলেও এবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশে বর্ষবরণ হয় আন্দোলনের মাঠে। এর মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

তারা জানান, এই দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ পালিত হতো। উৎসব চলতো এক সপ্তাহ ধরে। তবে এবার কিছুই হল না। তারপরও তাদের চাওয়া পরিস্থিতি ঠিক হোক।

স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা। জ্বালানি ও খাদ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে দিশহারা দেশটি। একেবারে তলানিতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও। এমনকি চলমান পরিস্থিতে শ্রীলঙ্কার খেলাপি ঋণ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের বড় দুটি ক্রেটিড রেটিং সংস্থা। তবে এ অবস্থার জন্য দেশটির সরকারকেই দায়ি করছেন জনগণ। 
ক্ষুব্ধ জনগণ পরিস্থিতি উত্তরণের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, আগামি সপ্তাহে পার্লামেন্টের অধিবেশন বসলে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া ও তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল।

পাঠকের মন্তব্য