পদ্মা সেতুতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাড়িবহরের মহড়া

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপরই উদ্বোধন হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতুর। শনিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে ৭ বছর ৬ মাস ২৬ দিন লেগেছে।

প্রধানমন্ত্রী আসবেন তাই পদ্মা সেতুকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ির মহড়াও দেয়া হয়েছে। বহরটি সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে মাওয়া প্রান্তের দিকে আসে।
 
এসময় পদ্মা নদী পারাপারের যাত্রীবাহী বেশ কিছু লঞ্চ নিয়ে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে একটি নৌ মহড়া দেখেছে স্থানীয়রা। এ সময় লঞ্চগুলোতে উড়ছিল লাল সবুজের পতাকা। শনিবার যখন প্রধানমন্ত্রী সেতু পাড়ি দেবেন, তখন পদ্মার জলে দেখা যাবে এই মহড়া।

সেতু উদ্বোধন করতে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশে হেলিকপ্টারে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর মুন্সীগঞ্জের উত্তর মেদিনীমণ্ডলে সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। 

বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন শনিবার (২৫ জুন)। এরপর যান চলাচলের জন্য রোববার সকাল থেকে উন্মুক্ত করা হবে স্বপ্নের এ সেতুটি। এটি দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেলসেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাংশের সংযোগ ঘটবে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত দেশটির সবচেয়ে বড় এ সেতু।

পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে স্বপ্নের এ সেতু। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

পাঠকের মন্তব্য