এক ঘণ্টায় শেষ উত্তরাঞ্চলের টিকিট, স্বাভাবিক বললেন স্টেশন ম্যানেজার

ঈদযাত্রার সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে, ট্রেনের টিকিট যেন ততোই ‘সোনার হরিণ’ এ রূপ নিচ্ছে। আগের দিন বিকেলে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে রাত পেরিয়ে সকালে কাউন্টার খোলার ঘণ্টা না পেরোতেই শুনতে হচ্ছে সব টিকিট শেষ। এতে ক্ষোভ বাড়ছে টিকিটপ্রত্যাশীদের। যদিও বিষয়টিকে স্বাভাবিক দেখছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার। 

ঈদে বাড়ি ফিরতে রোববার (৩ জুলাই) দেয়া হচ্ছে বৃহস্পতিবারের (৭ জুলাই) টিকিট। নির্দিষ্ট দিনের টিকিট পেতে শনিবার (২ জুলাই) থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। অপেক্ষার প্রহর দিন পেরিয়ে রাত। আর মধ্যরাত থেকে কাউন্টারের সামনের অংশ কানায় কানায় পূর্ণ টিকিটপ্রত্যাশীদের সমাগমে।

দিনরাত টানা অপেক্ষায় নাজেহাল যাত্রীরা। অনলাইন ওয়েবসাইট কিংবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ কাজ না করায় টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ অনেকের। বাধ্য হয়ে স্টেশনে আসছেন বলে জানান তারা।

তবে সকালে যখন টিকিট দেয়া শুরু হয় তখন থেকেই অনিয়ম ধরা পড়তে থাকে টিকিট নিতে আসা মানুষের চোখে। তারা জানান, যাদের একটু লবিং আছে, তারা সবার চোখের সামনে দিয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু বলতে গেলেও পুলিশের সদস্যরা বলতে দিচ্ছে না, উল্টো সবাইকে সরিয়ে দিচ্ছে। 

যাত্রীদের অভিযোগ, এক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের সব ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না।

টিকিট কাটতে আসা নারী জান্নাতুল নুরি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রোজার ঈদে দেখেছি লাইনে ৮০ সিরিয়াল পর্যন্ত সবাই টিকিট পেয়েছি। কিন্তু এবার ৩০ নম্বর সিরিয়াল পর্যন্ত যেতেই কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে উত্তর অঞ্চলের টিকিট সব শেষ হয়ে গেছে।’ কীভাবে এক ঘণ্টার মধ্যে সব টিকিট শেষ হয়ে যায়- এমন প্রশ্নের উত্তর এখন তিনি খুজে পাচ্ছেন না।
 
এদিকে টিকিটির এমন অনিয়ম নিয়ে স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় কয়েকজন যাত্রীকে। যদিও ব্রিফিংয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বিষয়টিকে খুব একটা অস্বাভাবিক মনে করছেন না। 

ব্যাখ্যায় তিনি জানান, ‘আজ ঢাকা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত স্টেশনের কাউন্টারে প্রায় ১২ হাজার ৩০০ টিকিট এবং অনলাইনে ৫ হাজার ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। আজকে ঈদের স্পেশাল ট্রেনের টিকিটও দেয়া হচ্ছে। যেহেতু ট্রেনের সংখ্যা সীমিত এবং আসন নির্দিষ্ট, ফলে সবাইকে আমরা টিকিট দিতে পারছি না। আজ মোট ২৯ হাজার ৭০০ টিকিটের মধ্যে অর্ধেক কাউন্টারে এবং অর্ধেক অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। একটা ট্রেনের যদি ৮০০ সিট থাকে, তাহলে তার অর্ধেক মানে ৪০০ টিকিট কাউন্টারে দেয়া হচ্ছে। এখন যেগুলো কাউন্টারে দেয়া হয় সেখানে নারীদের কাউন্টার, পুরুষের কাউন্টার, যাদের বিশেষ কোটা আছে তাদের কাউন্টার—সব মিলে দুই-তিনটা কাউন্টারে দেয়া হচ্ছে। তাহলে ৪০০ টিকিট তো খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।’ 

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহজের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘টিকিটের যে চাহিদা, তাতে অনলাইনে দুই মিনিটেও টিকিট শেষ হয়ে যেতে পারে।’

পাঠকের মন্তব্য