ইভ্যালির রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে আরেক মামলা

দেশের আলোচিত অনলাইনে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে এবার আরেকটি মামলা হয়ছে। 

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ধানমন্ডি থানায় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী। মামলায় ইভ্যালির রাসেল দম্পতিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করেছেন পণ্য সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ওই মালিক। 

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রিক পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। পণ্য ডেলিভারি বাবদ পাওনা টাকা চাইলে তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

ধানমন্ডি থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক অমৃতা গণমাধ্যমকে মামলার বিয়ষটি নিশ্চত করেন। বলেন, ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

এর আগে, শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন ও সিইও মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রতারণার অভিযোগে এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ইভ্যালি থেকে অনলাইনে একটি মোটরসাইকেল কিনতে টাকা জমা দেন। দীর্ঘদিনেও মোটরসাইকেল না দেওয়ায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি। 

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর তিন দিনের রিমান্ডের রিমান্ডের প্রথম দিন শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জিজ্ঞাসাবাদে কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি বলে দাবি করেছেন মোহাম্মদ রাসেল। বলেন, গ্রাহক জেনেবুঝেই পণ্য অর্ডার করেছে, যারা ডেলিভারি পায়নি ভবিষ্যতে টাকা পেয়ে যাবে। এখানে প্রতারণার কোনো বিষয় ছিল না।

 পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর জানায় গণমাধ্যমগুলো। বলা হয়, স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় পণ্য ডেলিভারি দিতে পারেননি ইভ্যালি। যাদের পণ্য ডেলিভারি দিতে পারেনি তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অনেকের ফেরত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রাসেল।
 
গ্রাহকদের টাকা আটকানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল দাবি করেন, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মোট তিন লাখ অর্ডার ডেলিভারি করেছে ইভ্যালি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা (১০% অ্যাডভান্স) এবং ইভ্যালিতে কেনাকাটায় একের পর এক ব্যাংক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ইভ্যালির নগদ জমার পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে রিফান্ড প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে যায়।
 
এর আগে করোনা পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্ডারগুলো আর ফিরিয়ে দিতে পারেনি বলে জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বলেন, মার্চেন্টদের উৎপাদন কম ছিল। কারো সঙ্গেই প্রতারণা করা হয়নি।

পাঠকের মন্তব্য