শাহরুখ পুত্রকে আটককারী কে এই মাদক কর্মকর্তা!

বলিউডের কল্যাণে জনপ্রিয় হয়েছিল একটি সংলাপ, ‘রাহুল.. নাম তো সুনা হি হোগা।’ শনিবার (২ অক্টোবর) রাতে প্রমোদতরীতে অভিযানের প্রেক্ষিতে জনপ্রিয় সংলাপটি একটু অদলবদল করে বলা যায়, ‘সমীর... নাম তো সুনা হি হোগা’! 

ঘটনাচক্রে আসল সংলাপটির ‘জনক’ এর পুত্রকে মাদকের পার্টি থেকে আটক করে ফের শিরোনামে নতুন সংলাপের নায়ক। আপাতত বলিউডের একটি অংশের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম মাদকবিরোধী সংস্থার সমীর ওয়াংখেড়ে।

বলিউডের এই আতঙ্কের কারণ কী? এর উত্তর পেতে খানিকটা পেছনে ফিরে যেতে হবে। অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপূতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে মাদক যোগ থেকে শুরু করে ২০১১ সালে মুম্বাই বিমানবন্দরে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি আটকে দেওয়া, সবখানেই ‘নায়ক’ সমীর।

২০০৮ ব্যাচের আইআরএস কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের কাজের একটি নমুনা হল, গত দু’বছরে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে তার দল।

এছাড়াও শুল্ক দপ্তরে কাজ করার সময় একাধিক তারকার বিদেশ থেকে আনা পণ্য বিমানবন্দর থেকে ছাড়ানোর অনুমতি আটকে দিয়েছিলেন সমীর। অন্তত দু’হাজার তারকার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে মুম্বাই বিমানবন্দরে ওয়াংখেড়ের হাতে বিদেশি মুদ্রাসহ ধরা পড়েন গায়ক মিকা সিংহ। এ ছাড়া অনুরাগ কাশ্যপ, বিবেক ওবেরয়, রামগোপাল বর্মাদের বিরুদ্ধে হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির মামলাতেও তল্লাশি চালিয়েছেন সমীর।

২০১১ সালে আমদানি শুল্ক না দেওয়ায় সমীর মুম্বাই বিমানবন্দরে আটকে দেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি। শেষ পর্যন্ত শুল্ক মিটিয়ে ট্রফি ছাড়াতে হয়। ২০১১ সালের ২ এপ্রিল সেই ট্রফিই উঠেছিল মহেন্দ্র সিংহ ধোনির হাতে।

পেশাগত জীবনে ঠিক যতটা কঠোর, ব্যক্তিজীবনে ততটাই নরম সমীর। ব্যক্তি জীবনেও রয়েছে বলিউড যোগ। সমীর বিয়ে করেছেন অজয় দেবগণ অভিনীত গঙ্গাজল ছবির শিল্পী ক্রান্তি রেডকরকে। ক্রান্তি মরাঠি চলচ্চিত্র জগতে একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। এমন কর্মকর্তার হাতে ধরা পড়লেন শাহরুখ পুত্র আরিয়ান খান।

পাঠকের মন্তব্য