চবির রেল স্টেশনে উঁচু প্ল্যাটফর্ম, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

করোনাকালীন বন্ধের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে শহরমুখী ট্রেন লাইনের সংস্কার, প্ল্যাটফর্মসহ বেশ কিছু কাজ করেছে রেলওয়ে কতৃপক্ষ। তার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম বাড়ানো হয়েছে। তবে বর্ধিত এই প্ল্যাটফর্মে অনেক উঁচু করে তৈরি করায় তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।

সরজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের বর্ধিত অংশের উচ্চতা শাটলের পাটাতনের সমান। যার ফলে শাটল চলাচলের সময় শাটলের সাথে প্ল্যাটফর্মের দূরত্ব কেবল কয়েক ইঞ্চি। আর এই উচ্চতায় শাটলের চলাচল ঘটাতে পারে দুর্ঘটনা।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। আর এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর অধিকাংশের চলাচলের অন্যতম বাহন শাটল ট্রেন। প্রায়ই শাটলে অতিরিক্ত সংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এতে দাঁড়িয়ে এবং ঝুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম শহরে বা শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। 

কেউ কেউ আবার সিট না পেয়ে শাটলের পাদানিতে বসে যাতায়াত করেন। কিন্তু এবার প্ল্যাটফর্ম উঁচু হওয়ায় পাদানিতে বসলে দুর্ঘটনার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার এই উঁচু প্ল্যাটফর্মের কারণে দুর্ঘটার মুখোমুখি হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাবির 'খ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে শাটল থেকে নামতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান ভর্তিচ্ছুরা। এছাড়া ২৩ অক্টোবর দুপুর দেড়টার ট্রেনে দ্রুত উঠতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান চবির অর্থনীতি বিভাগের (১৬-১৭) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক গোমস্তা।

দুর্ঘটনার শিকার অনিক গোমস্তা বলেন, ‘ঢাবির 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় শাটলে বেশ ভিড় ছিল। আমি দেড়টার শাটলে উঠে ট্রেনের সিঁড়িতে দাঁড়াই। এরইমধ্যে শাটল চলতে শুরু করায় বুঝতে পারি আমার পা শাটল ও প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে আটকে যাবে। কিন্তু দরজায় ভিড় থাকায় ভেতরেও প্রবেশ করতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে দ্রুত চলন্ত শাটল থেকে গেলে পায়ে মারাত্মক জখম হয়।’

পরে অনিক গোমস্তাকে প্রথমে চবির মেডিকেল সেন্টার ও পরে হাটহাজারীতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘শাটলে বগি কম থাকায় অনেক ভিড় হয়। আর এতে করে এই প্লাটফর্মের কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কতৃপক্ষের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবির প্রধান প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, ‘এ কাজগুলো মূলত রেলওয়ে কতৃপক্ষ করে থাকে। যেহেতু এই প্ল্যাটফর্মের জন্য দুর্ঘটনা হচ্ছে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে রেলওয়েকে জানাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একটি অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্মের জন্য রেলওয়ে বরাবর চিঠি দিয়েছি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নং গেটে স্পীড ব্রেকার নির্মাণের জন্যও কতৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

পাঠকের মন্তব্য