‘নিরাশার মাঝেও আশার আলো নাসিক নির্বাচন’

সহিংসতা শূন্য নির্বাচন দেখলো দেশের ১৭ কোটি মানুষ। ভোটারদের উচ্ছ্বাস, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটির ভোট নির্বাচনী ব্যবস্থার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করলো। নাসিক নির্বাচনকে মাইলফলক বলছেন বিশ্লেষকরাও।

নারায়ণগঞ্জে সহিংসতাবিহীন এক নির্বাচন দেখলো দেশবাসী। যে নির্বাচনের প্রতিটি মুহুর্ত টানটান উত্তেজনায় ভরপুর, বাকযুদ্ধের একের পর এক অধ্যায়। তবে নেই আইন ভঙ্গের এতটুকু রেশ।

সাম্প্রতিক সময়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় সহিংসতার আশঙ্কা দানা বাঁধে নারায়ণগঞ্জের ভোটগ্রহণ ঘিরে। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান দুই প্রাথীও শঙ্কা জানান। ভোটাররাও ছিলেন অজানা আতঙ্কে। ফলে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছিল ততোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছিল শরটিতে। 

তবে সব শঙ্কাকে তুড়ি মেরে রোববার শতভাগ শান্তিপূর্ণ এক নির্বাচন দেখলো শীতলক্ষ্যা পাড়ের বাসিন্দারা।

নারায়ণগঞ্জের এমন পরিস্থিতি দেশের জাতীয় নিবাচর্নী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনগুলোতে সাধারণত দেখা যায়, আর কিছু হোক বা না হোক, অন্তত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। কিন্তু এই নির্বাচনে শুরু থেকেই সহাবস্থান ছিল, সে রকম কোন কাদা ছোড়াছুড়ি হয়নি। এজেন্ট বের করে দিয়েছে বা কাউকে ঢুকতে দেয়নি, সেরকম অভিযোগও কম শুনা গেছে।’

একই কথা বললেন সিনিয়র সাংবাদিক হালিম আজাদ। তিনি বলেন, ‘অতীতের দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের সিটি নির্বাচন অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে তেমন কোন অঘটন ঘটেনি বললেই চলে।’

এমনকি আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে নারায়ণগঞ্জের এ নির্বাচন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলেও মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

বিষয়টিকে একটি উদাহরণ হিসেবেই দেখতে চান সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। তার মতে, এটি নিসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের সেরা একটি নির্বাচন। এটিকে যদি উদাহরণ হিসেবে সবাই ধরে, তাহলে বলতেই হয়, নিরাশার মাঝেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য অভিভাবক নির্ধারণের লড়াইয়ে নিজেদের ভোট দিয়েছেন আড়াই লাখের বেশি ভোটার।

পাঠকের মন্তব্য