ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় শাওনের অ্যানড্রয়েড অ্যাপ উদ্ভাবন

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আমরা ব্যাপকভাবে তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমাদের জীবনযাত্রার মান হয়ে উঠেছে সহজ এবং দ্রুত। তারই ধারাবাহিকতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বপ্নবাজ তরুণ মাহাবুব আলম শাওন দেশের ট্রাফিক পুলিশদের কথা চিন্তা করে ‘ভেহিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করেছেন। 

অ্যাপটি তৈরিতে তাকে সহায়তা করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নারায়ণ রঞ্জন চক্রবর্তী এবং কনটেন্ট তৈরিতে সহযোগিতা করেন তার দুই বান্ধবী নিশাত তাসনিম প্রমি এবং আনিকা শামা।

এই অ্যাপটির মাধ্যমে খুব সহজেই সারা দেশের ট্রাফিক পুলিশ সব ধরনের যানবাহনের উপর কেস দিতে পারবে।

‘ভেহিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ অ্যাপটির নির্মাতা মাহাবুব আলম শাওন নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার কলাগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আলাদা একটা ঝোঁক ছিল তার।

মাহাবুব আলম শাওন বলেন, বিভিন্ন মেট্রো এরিয়াতে ট্রাফিক পুলিশরা একটা পস মেশিন ব্যবহার করে বিভিন্ন যানবাহনে উপর কেস দিয়ে থাকে। ওই ডিভাইস ব্যবহার করে কেস দিতে অনেক সময় সাপেক্ষ এবং ম্যানুয়ালি সব ইনপুট দিতে হয়। কোন পস মেশিন ছাড়াই এটি ব্যবহার করে ট্রাফিক পুলিশ সহজে যানবাহনের মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। 

শাওন বলেন, নির্দিষ্ট কোন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর নতুন উদ্ভাবিত এই অ্যাপে প্রবেশ করালেই মালিকের ছবিসহ গাড়ির যাবতীয় তথ্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে চলে আসবে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করা না থাকলে কোন তথ্য মিলবে না।

শাওনের মতে, মেট্রো এরিয়া বাদে বিভিন্ন জেলা শহরের ট্রাফিক পুলিশদের কাগজে লিখে কেস দিতে হয় যা আরো সময় সাপেক্ষ। সেখান থেকেই মূলত চিন্তাটা আসে কিভাবে এটাকে ডিজিটালাইজড করা যায়। সেভাবেই কাজ শুরু। 

এই বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নারায়ণ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রজেক্টটা শুরু থেকেই আমার কাছে চমৎকার মনে হয়েছে। সেভাবেই আমি ওদের দিকনির্দেশনা দিয়েছি, বাকি কাজ ওরা খুব সুন্দর করে করেছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’

পাঠকের মন্তব্য