বাস বাড়েনি, উল্টো আড়াই মাসে সংখ্যা কমে অর্ধেক!

রাজধানীতে গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ঢাকা নগর পরিবহন অর্ধশতাধিক বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করে গত ডিসেম্বরে। পরীক্ষামূলকভাবে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রুট চালু হয়। যা পর্যায়ক্রমে শতাধিক বাড়ানোর কথা ছিলো।

কিন্তু চাহিদা বাড়লেও গত দু'মাসে সংখ্যা বাড়াতো দূরের কথা বাস নেমে এসেছে অর্ধেকে। এ রুটে চাহিদা থাকলেও সিটি করপোরেশন তা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সদিচ্ছার পরও সিন্ডিকেটের কারণেই ভোগান্তি কমছে না। তবে দক্ষিণের মেয়র জানালেন, গণপরিবহণে শৃঙ্খলা রক্ষায় এপ্রিলেই নামানো হবে নতুন বাস।

নগর পরিবহনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো গাড়ি ছাড়তে না পারায় প্রতিনিয়তই যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডার মুখে পড়তে হয়।

এদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই রুটের অন্য কোম্পানির বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক সার্ভিস চালুর দুই মাসেও বন্ধ হয়নি অন্য কোম্পানির বাস। রজনীগন্ধা, মালঞ্চ, মিডলাইন ও সময় ট্রান্সপোর্টের বাসগুলো চলছে দেদারছে।

এতে প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় বলে জানালেন বিআরটিসির বাস চালক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অন্য কোম্পানির বাসের চালকরা ঢাকা নগর পরিবহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। দখল করেছেন নগর পরিবহনের বাস স্টপেজগুলোও। 

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সহকারি অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত নগর পরিবহনে গাড়ি বৃদ্ধি না করলে মুখ থুবড়ে পড়বে প্রকল্পটি। তার মতে, এখানে পরীক্ষামূলকভাবে বাস রুট রেশনালাইজেশন সফল হলে পুরো রাজধানীতে রেশনালাইজেশন পদ্ধতি চালু হবে। এতে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য কমে আসবে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে এই রুটে অন্যসব কোম্পানির বাস নিষিদ্ধ করতে হবে এই রুটে। তাহলে ঢাকায় পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে।

প্রকল্পটি ব্যর্থ করতে বিভিন্ন সিন্ডিকেট কাজ করলেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বদ্ধ পরিকর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস জানালেন, যাত্রী ভোগান্তি কমাতে এপ্রিলেই নামানো হবে নতুন বাস।

পাঠকের মন্তব্য