নার্সের নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে গেলে দেখা যায় সবই ভুয়া

নিয়োগ পরীক্ষার হলের সামনেই প্রার্থীর সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্য। বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে দেখানো হয় চাকরি দেয়ার প্রলোভন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে চাকরির টোপ দিয়ে চক্রটি ৪৪ জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় কোটি টাকা। পরে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

সাদিয়া খাতুন রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কাজ করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একই পদে চাকরির আবেদন করেন। একই সময় তার সঙ্গে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। 

তিনি নিজেকে বিএসএমএমইউ'র অনকোলজি বিভাগে কর্মরত আছেন বলে পরিচয় দিয়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেন। এরপর চাকরির জন্য বিভিন্ন কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেন ওই ব্যক্তি।

এভাবে সাদিয়ার মতো চাকরি প্রত্যাশী ৪৪ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি বছর সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে চাকরির সময় এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে জানায় পুলিশ। নার্সদেরকে নিশ্চিত চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। বিনিময়ে দেয় নিয়োগপত্র। নার্সরা এই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে যোগ দিতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ না করায় জানা যায় নিয়োগপত্রগুলো ভুয়া।

পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ জানান, ওই চক্রটি খোঁজ রাখত কোন প্রতিষ্ঠানে কখন নিয়োগ হবে। সে অনুযায়ী তারা সহজ-সরল প্রার্থীদের বের করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রলোভন দেখায়। এরপর নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের বড় কোন কর্মকর্তা বা বড় কোন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ আছে বলে বিশ্বাস করাতো। এভাবেই আর্থিক লেনদেন শুরু করতো। এরপর ভুয়া একটা নিয়োগপত্র তৈরি করে তাদের হাতে দিয়ে তারা লাপাত্তা হয়ে যেত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই দুই প্রতারকের সঙ্গে তাদের হাসপাতালের কোনো সম্পর্ক নেই।  পুলিশের মতে, যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি পেতে চায় দায় আছে তাদেরও।

পাঠকের মন্তব্য