দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘মার্কিন তথ্যে গরমিল, বিএনপি আমলের ঘটনা প্রতিবেদনের আনা হয়েছে’

বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিবেদনে ২০২১ সালে বাংলাদেশে গুম-খুন এবং রাজনৈতিক হয়রানির যে তথ্য উঠে এসেছে, তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। 

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে যে পরিমাণ গুম-খুনের কথা এখানে বলা হচ্ছে, আমাদের রেকর্ডে কিন্তু সে পরিমাণ নেই। প্রতিবেদনে তথ্য বিভ্রাট রয়েছে।’

বিএনপি আমলের ঘটনা হয়তো প্রতিবেদনে এসেছে ধারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার এদেশে ভুল করতো। তখন হয়তো এরকম হয়েছে। আর পেছনের কথা হয়তো তারা এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করেছে। তবে আমার পরিষ্কার জানা নেই।’

বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা যদি কেউ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়, নিরাপত্তাবাহিনী আত্মরক্ষার ভয়ে যদি গুলিও করেন তাহলেও প্রত্যেক ঘটনায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করেন। এতে যদি ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হয় তাহলে সেই বিষয়টি আমরা ক্লোজ করে দিই। আর যদি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন এখানে ঘটনাটি অন্যায় বা অসতর্কতায় হয়েছে, এটা আমরা বিচার বিভাগে পাঠিয়ে দিই।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশে কেউই বিচারের ঊর্ধ্বে নয়। এখানে যে অন্যায় করে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। তারা (মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) যেটা (প্রতিবেদন) করেছে, তাদের তথ্য বিভ্রাট হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন দেশ শাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন তখন থেকেই নিরাপত্তা বাহিনী কোন অন্যায় করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। গুমের কথা যেগুলো বলা হয়েছে এগুলোর প্রায় সবই অনুসন্ধান করে দেখা হয়েছে, এক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে আত্মগোপন করেছিলেন- এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে। কাজেই যে প্রতিবেদনটি এসেছে সেখানে তথ্যবিভ্রাট হয়েছে এবং তথ্যে গরমিল আছে।’

এদিকে, করোনা সংক্রমনের কথা বিবেচনায় রেখেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে বলে জানান তিনি। বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা মাথায় রেখেই দুপুর দুইটার মধ্যে নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য