ভয়েস ডেস্ক

গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাধিক ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শামসুন্নাহার হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে। এছাড়াও অভিযুক্ত সুপ্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে ইচ্ছা করে পরীক্ষায় ফেল করানো, নাম্বার কম দেয়া, পছন্দের ছাত্রীদের দীর্ঘদিন হলে আশ্রয় দেয়া, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার, হলের বরাদ্দ থেকে অর্থ লুট সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, সোমবার রাত দশটার দিকে শামসুন্নাহার হলের এক নিরাপত্তাকর্মী স্নাতকোত্তর পাস এক ছাত্রীকে হলে প্রবেশ করতে দেখে তার পথ রোধ করে। তার আইডি কার্ড দেখে তাকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হিসেবে চিহ্নিত করে সে। পরবর্তীতে প্রাধ্যক্ষ সুপ্রিয়া সাহার স্মরণাপন্ন হলে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষনিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। তখন রাত প্রায় এগারোটা বাজে। ওই শিক্ষার্থী এতো রাতে হল ত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে সুপ্রিয়া সাহা তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলেও ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।

ভূক্তভোগী ছাত্রী জানান, ‘আমি পারিবারিক সমস্যার কারণে মাস্টার্স শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বাসা ঠিক করে হর ছাড়তে দেরী হচ্ছিল। নভেম্বরের ১ তারিখে হল ছেড়ে বাসায় ওঠার কথা ছিল। আমার মতো অনেকেই সাময়িক অসুবিধার কারণে বিভিন্ন হলে রয়েছে। কিন্তু আমি অনুরোধ করার পরও ম্যাডাম আমাকে রাত এগারোটার দিকে হল থেকে বের করে দেন।’ পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক সিনিয়র আপুর কাছে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

এর কয়েকমাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে রাত এগারোটার পর হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অন্য হলের হয়েও রাতে শামসুন্নাহার হলে তার বান্ধবীর কাছে থাকতে গেলে প্রাধ্যক্ষ সুপ্রিয়া সাহা রাত বারোটার দিকে তার পরিবারকে ডেকে এনে হল থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রভোস্ট ম্যাডাম নিয়ম মানার নামে অতিরিক্ত অভিনয় করেন। পলিটিক্যাল ছাত্রীরা বছরের পর বছর হলে অবস্থান করলেও তিনি কাউকে কিছু বলেন না। অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রীদের পরীক্ষা শেষ হলেই দুর্ব্যবহার করে তাদেরকে হল থেকে তাড়িয়ে দেন।’ এছাড়া গভীর রাতে একজন মেয়েকে হল থেকে বের করে দিলে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত নম্বর কম দিয়ে পরীক্ষায় ফেল করানোর অভিযোগ করেছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। ভ‚ক্তভোগী তৃতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী জানান, ‘ম্যাডামকে কথাবার্তায় খুবই ভালো মনে হয়। কিন্তু তিনি অত্যন্ত কুটিল প্রকৃতির মানুষ। কারও প্রতি রাগ করলে রাগ পুষে রেখে দুর্ব্যবহার করেন; এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা বলেন, ‘ওই মেয়েটি আমাদের সাবেক শিক্ষার্থী ছিল, তাই তাকে বের করে দিয়েছি। তার সমস্যার কথা আমি জানি না।’

পলিটিক্যাল শিক্ষার্থীরা সাবেক হওয়ার পরও বছরের পর বছর হলে অবস্থান করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই।’ ইচ্ছাকৃত নম্বর কম দিয়ে শিক্ষার্থীকে ফেল করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, ‘গভীর রাতে একটা মেয়েকে হল থেকে বের করে দেয়া কান্ডজ্ঞানহীন কাজ। নিজের মেয়ে হলে তিনি কোনোদিন নিরাপত্তাহীনভাবে রাত দুপুরে ঘরের বাইরে বের করে দিতে পারতেন না।’ এছাড়া ব্যক্তিগত রাগ-অভিমানের বশবর্তী হয়ে পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম দেয়া অধ্যাপক সুলভ আচরণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

SHARE