যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম প্রসাধনী ব্র্যান্ডের নাম ‘ক্লেরিস’। এ কোম্পানির অন্যতম পণ্য ডেইলি বেবি লোশন। যা উৎপাদন হয় থাইল্যান্ডে। বাংলাদেশের কোথাও এমনকি ভারতেও কোনো কারখানা নেই প্রতিষ্ঠানটির । কিন্তু ক্লেরিসের লোগো হুবহু নকল করেই চকবাজার চুড়িহাট্টার মৃত্যুপুরী সেই হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে   তৈরি হতো ডেইলি বেবি লোশন।

একইভাবে দুবাইয়ের ‘স্টারলিং’ ব্র্যান্ডের নকল পারফিউমও তৈরি হতো ওই ভবনে। চারতলা এই ভবনে বুধবার রাতে  আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনে থাকা বডি স্পের হাজার হাজার বোতলে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণেই । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদাসীনতার কারণেই বছরের পর বছর ধরে চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় এসব নকল প্রসাধনসামগ্রীর কারখানা গড়ে উঠেছে। বডি স্প্রে ছাড়াও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক থাকে এ কারখানাগুলোয়, যা মারাত্মক দাহ্য।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আগুনের পর হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয়, এখন এসব নকল পারফিউম ও লোশনের বোতল তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়  স্তূপ হয়ে জমে আছে । যার সবই পুড়ে গেছে।অনেক বোতল আবার পড়ে আছে সামনের রাস্তায়ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে । একটু চোখ বুলালেই এসব বোতলে দেখা যাবে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের হুবহু সিল।

কনজ্যুমার অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান এ বিষয়ে  বলেন, পুরান ঢাকায় অন্তত ৫০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাসায়নিক বা দাহ্য পদার্থের গোডাউন ও কারখানা রয়েছে। সরকারের উদ্যোগসহ আমরা সেগুলো সরিয়ে নিতে বললেও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে তা হয়নি। পাশাপাশি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নকল পণ্য উৎপাদনের পেছনে যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকার পরও এটা হওয়ার কথা নয়।

SHARE