বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,

অভূতপূর্ব বিষাদময় এক সময় পার করছে পুরো পৃথিবী। করোনাভাইরাস নামের এক জীবনহারী জীবানু নিয়েছে কেড়ে লাখো প্রাণ, স্থবির করে দিয়েছে পুরো বিশ্ব। মহামারীর এই সময়ে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি নিয়মের সাথে পরিচিত হচ্ছে মানুষ। একই সাথে তাদের মনে ঘুরে ফিরছে সহজাত বেঁচে থাকার আকুতি, কাজে ফেরার আকুতি।

এই স্থবিরতা পেছনে ফেলে শিক্ষার্থী মনেও প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে সেই চিরচেনা ক্যাম্পাস, ক্লাসরুম আর আড্ডা-গল্পে পুনরায় ফিরে যেতে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর মনের এমন আকুতিই যেন উঠে এসেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসানের এক খোলা চিঠিতে।

প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যতা অনুভব করে বৃহস্পতিবার খোলা চিঠির আদলে এক ফেসবুক স্টাটাস দেয় মাহমুদ। সেখানে সে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রূপক কথনে তুলে ধরে শিক্ষার্থী শূন্য ক্যাম্পাসের কষ্টের অনুভবের কথা, জানায় ক্যাম্পাসে ফেরার আর বন্ধুদের সাথে ফের মিলিত হবার আকুতির কথা।
আবেগঘন এই স্টাটাসটি পাঠকদের জন্য নীচে তুলে ধরা হলো-

“ড্যাফোডিল স্থায়ী ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা তোমাদের জন্য একটি চিঠি এসেছে। প্রেরক তোমাদের প্রাণের স্থায়ী ক্যাম্পাস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

“প্রাণহীন দেহ বড় তুচ্ছ ”
আমার প্রাণেরা,
কেমন আছিস তোরা সকলে? জানিস, আমি ভালো নেই! প্রায় তিন মাস হতে চললো তোদের সাথে কোন দেখা নেই। আমার প্রিয় মুখগুলোর কোন দেখা নেই। সেই যে মিড শেষে বলে গেলি, এইযে আমি মায়ের কাছে যাচ্ছি মাত্র চার দিনের ছুটিতে। কিন্তু আজ যে তিন মাস হতে চললো, এখনো তোরা ফিরে আসলিনা।
কেমন আছিস তোরা? জানিস, আমি না ভালো নেই। তোদের বনমায়া, কাঁঠালতলা, গ্রিনগার্ডেন, ফুডকোর্ড, লাইব্রেরি, ক্লাসরুম থেকে শুরু করে কীবোর্ড গুলো তোদের যে বড্ড বেশি মিস করছে। এখন যে বনমায়ায় বসে কেউ আর গুনগুনিয়ে গান গায় না। কেউ যে কাঁঠালতলায় বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয় না। তবে কি আমার কথা তোদের মনে পরে না? তোদের বন্ধুদের কথাও মনে পরে না?
প্রিয় মুখেরা, কেমন আছিস তোরা? জানিস, আমি না ভালো নেই। কীবোর্ড গুলোর উপর দিয়ে মাঝে মধ্যে কয়েকটি টিকটিকি হেঁটে যায়, কিন্তু তোদের আঙুলস্পর্শ পরে না। হঠাৎ করে Ab4 এর ৫১৭ নং রুমের পাশে একটি প্যাঁচা এসে ঘুরে যায়, কিন্তু তবুও তোরা আমাকে একটুকুও দেখতে আসিস না। তবে কি তোরা রাগ করেছিস? তোদের মামারা যে তোদের মাঠে নামতে দেয়নি- তাই বঝি? জানিস, তোদের মামারা তোদের খুব মিস করে। এবার তোরা মাঠের উপর দিয়ে হাঁটলেও তারা আর তোদের আটকাবে না। তবুও একবার আমাকে দেখা দিয়ে যা আমার অক্সিজেনরা!
কেমন আছিস তোরা? জানিস, আমি না ভালো নেই। তোদের ফেরার জন্যই বোধহয় প্রকৃতি আমাকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে দিচ্ছে। জানিস, সেই যে AB-3 এর সামনে আম গাছ গুলো আছে, তাতে এবার অনেক আম ধরেছে, কেউ ছিড়েনি। গলফ মাঠের বড়ই গাছটায় এক জোড়া টুনটুনি বাসা বেঁধেছে। তবুও তোরা দেখতে আসবি না্! জানিস আমার না ভীষণ একা একা লাগে, দম বন্ধ হয়ে আসে। তবুও তোরা আমাকে দেখতে আসিস না। তোদের ছাড়া এখন আমি প্রাণহীন স্তম্ভ মাত্র।
আমার অনুভূতিরা, কেমন আছিস তোরা? জানিস, আমি না ভালো নেই। তোদের নিশাত কবিরের চায়ের আড্ডা আর গেটের সামনে মামার চটপটির কথা কি তোদের মনে পরে না? একাত্তর, দেওয়ান তোদেরকে অনেক মিস করে। তবুও তোরা একবারও দেখতে আসলি না!
কেমন আছিস তোরা? আমি ভালো নেই। তোদের ইউনুস খান স্কলার্স গার্ডেন এর কথা মনে পরে? জানিস, এখন না তার মাঝে আর প্রাণ নেই। সে এখন প্রায় বৃদ্ধ হয়ে পরেছে। একাকী জীবন-যাপন করে নিষ্প্রাণ হয়ে পরেছে। তবুও কেউ তোরা তাকে দেখতে আসলি না! তোদের রুমের টেবিলগুলোর উপরে ধুলোর স্তর পরেছে। তবে কি তোর প্রিয় রুম, টেবিল, আর রুমমেটদের কথা মনে পরে না? তোর বন্ধুদের সাথে ক্যারাম খেলার কথা কি মনে পরে না? যে ‘উত্তরবঙ্গ’ তোর মায়ের রান্নার কথা মনে করিয়ে দিত, সে ‘উত্তরবঙ্গকে’ তবে কি তোর একটুও মনে পরে না?
কেমন আছিস আমার চোখের পলকেরা? জানিস, আমি না ভালো নেই। মডেল টাউনে কেউ আর এখন আসে না। বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেয় না। এখন খাগান থেকে দত্তপাড়ায় তেমন একটা রিকশাও চলে না। অডিটোরিয়াম, বনমায়া, Ab-4, Ab-1 প্রচন্ড খা খা করে আজ। কতো আড্ডা, কতো উৎসব- এগুলোকে কি তবে মিস করিস না এখন? আমাকে কি তবে তোদের একটুও মনে পরে না? তবে একদিনও আমাকে কেন দেখতে আসলি না?
আমার প্রাণের বন্ধুরা, কেমন আছিস তোরা? জানিস, আমি না ভালো নেই একদম। তোদের অপেক্ষায় আছি।

ইতি তোদের,
প্রাণের স্থায়ী ক্যাম্পাস,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

SHARE