ভয়েস ডেস্ক:

বাংলাদেশি ছাত্রী প্রিয়তা ইফতেখারের মাথায় উঠেছে ‘মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর মুকুট। নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ওই ছাত্রী বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন অনন্য গৌরব। প্রশংসার জোয়ারে এখন তিনি ভাসছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর জিম্বাবুয়েতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রতিযোগিকে পেছেনে ফেলে সেরা হয়েছেন প্রিয়তা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতা নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সেরাদের সেরা হয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফাইনালে বিশ্বের ২৬টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নেন। এরমধ্যে সেরা ১৫ বাছাইয়ের পর শীর্ষ পাঁচ চূড়ান্ত করে জুরি বোর্ড। মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড-২০১৮ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন ৫০টি দেশ।

জিম্বাবুয়ের জাতীয় ব্র্যান্ডিং ও বিনিয়োগ ফার্ম প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। মূলত বৈশ্বিকভাবে সংস্কৃতির আদান-প্রদানের জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রিয়তা ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দ্য ফ্ল্যাগ গার্ল’ নামের একটি নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্ক কাজ করছে দেশ ও বিদেশের নারীদের নিয়ে। তবে নেটওয়ার্কের সদস্যদের মধ্যে নারী-পুরুষ সবাই আছেন। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩০০। ৫০ শতাংশ সদস্য বাংলাদেশি। অন্য ৫০ শতাংশ সদস্যদের বাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এরই কার্যক্রম হিসেবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রিয়তা।

এর আগে প্রিয়তা ইফতেখার মিস ট্যুরিজম ওয়ার্ল্ড, মিস মাল্টিন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারী ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় এ বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন প্রিয়তা।

 

জানা গেছে, পতাকা বালিকাখ্যাত প্রিয়তা ইফতেখার দ্য ফ্লাগ গার্ল এর প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশের এই সাহসী তরুণীর ধমনীতে বইছে, ব্রিটিশ ভারতের বিখ্যাত পত্রিকা সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দীনের রক্ত। নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত নূরজাহান বেগম প্রিয়তার নানি। কচি কাঁচা মেলার প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই তার নানা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও প্রিয়তা কাজ করছেন। সারা বিশ্বে নিজে ভ্রমণের পাশাপাশি বাংলাদেশের মেয়েরা যাতে এ সুযোগ পায় এ জন্য ছুটে চলছেন সব বাধা ও চ্যালেঞ্জ জয় করে। দেশি বিদেশি নারীদের নিয়ে কাজ করতে ২০০৮ সালে দ্য ফ্লাগ গার্ল গড়ে তোলেন প্রিয়তা। সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্য করতে, সারা বিশ্বে গড়ে তুলেছেন ফ্রেন্ড নেটওয়ার্ক। এই বন্ধুরাও যেসব দেশে ভ্রমণ করেন তারাও সে সব দেশে তুলে ধরেন বাংলাদেশের পতাকা।

SHARE