বরিশাল  প্রতিনিধি:

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নতুন করে আরো তিন চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে করোনা চিকিৎসায় নিরাপত্তার দাবিতে শেবাচিমের প্রায় ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক সেবা প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন। শনিবার রাত ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।

তিনি জানান, শুক্রবার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাসের এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজেটিভ আসে। ওই ছাত্রাবাসে আরও বেশকিছু ইন্টার্ন চিকিৎসকের বসবাস রয়েছে। পরে তাদেরসহ হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। তাদের মধ্য থেকে আজ নতুন করে ৩ চিকিৎসকের রিপোর্টে করোনা পজেটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার ও বাকি দু’জন ইন্টার্ন চিকিৎসক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাসনিবাসী ও মেডিক্যাল কলেজের ৪৬তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। হাসপাতালের মোট ২০৯ জন ইন্টার্নের মধ্যে ওই হলে ৪০ জন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসকের বসবাস। এর মধ্যে ১৫ জনের মতো ইন্টার্ন করোনা আক্রান্ত ওই ছাত্রের কাছাকাছি ছিলেন।

শনিবার দুপুরে পরিচালকের কাছে গিয়ে ওই ৪০ ইন্টার্ন করোনা পরিস্থিতিতে তাদের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা প্রদানে নিরাপত্তার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন এবং তাদের করোনা পরীক্ষার দাবি জানান। সে অনুযায়ী ওই ছাত্রের রুমমেটসহ প্রায় ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়। বিকেলের পর থেকে ওই ৪০ ইন্টার্ন হাসপাতালের রোগীদের সেবা প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে। তবে ওই ৪০ ইন্টার্ন ছাড়া বাকিরা ও মিড লেভেলের চিকিৎসকরা হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। রোগীর সংখ্যা কম থাকায় সেবা প্রদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

শনিবারের ৩ জনসহ বরিশাল জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতালের ১ চিকিৎসক, ২ ইন্টার্ন চিকিৎসক, ১ নার্স ও মেডিক্যাল কলেজের ১ ছাত্র রয়েছে। এছাড়া আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক চিকিৎসক দম্পতি এবং বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১ নার্সসহ ৫ স্বাস্থ্যকর্মী, মেহেন্দিগঞ্জে ১, বাকেরগঞ্জে ১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। অপরদিকে জেলার মুলাদী উপজেলায় মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষা করে এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত করা হয়।

SHARE