রিফাত- তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে?
রিয়া- হে অনেক..
-একদমই উঠতে পারবা না?
-না.. তুমি চলে যাও..
-কিভাবে যাবো?
-সময় নষ্ট করো না..
-তোমাকে এভাবে ছেড়ে চলে যেয়ে হয়তো বেচে যাবো.. বিবেকের কাছে তো আমি প্রতিদিন ই মারা যাবো..
-যাও তো.. (চিৎকার করে)


-ছেড়ে চলে যাবো বলে তো হাতটি ধরি না.. বাকি জীবন একসাথে চলার শপথ করি নি..আর তা ছাড়া তোমার বুকে আমার সন্তান.. ওকে কিভাবে ছেড়ে চলে যাবো? আমার সন্তান তার সব থেকে বিপদের সময় তার বাবাকে পাশে পাবে না?
-তোমার বাবা মার কথা ভাবো?
-তোমার কথা ভাববো না?


-এতটা ভালোবাসো আমাকে? মৃত্যু সামনে দেখেও আমার পাশে থাকবে?
-হুম.. (চোখে পানি টলমল করছে)
-নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে..


-আমার বাবুটার জন্য মায়া লাগছে.. আমার সন্তান.. বাবা ডাকটা শুনতে পারবো না..
পুরো ঘরে আগুন.. আগুনের তাপ ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে..
রিয়া- আমার খুব ভয় করছে..


রিফাত এবার আর কান্না চেপে রাখতে পারলো না.. রিয়ার কপালে একটা চুমু খেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বললো..
-ধন্যবাদ রিয়া.. ওপারে দেখা হচ্ছে..

চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের ‘ওয়াহিদ ম্যানশন’ ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন গর্ভবতী নারী রিয়া ও তার স্বামী রিফাত। অসুস্থ থাকার কারণে ভবন থেকে নামতে পারেননি রিয়া, তাই নামেননি রিফাতও। গর্ভের সন্তানসহ দু’জনেরই আগুনে পুড়ে হয়েছে করুণ মৃত্যু।

সূত্র: ফেসবুক তেকে সংগৃহীত

SHARE