আপনি কি জানেন পুরুষের বীর্যপাত কি? বা সেটা কেনো হয়? জানেন! বাহ্ বেশ ভালো কথা আপনি জানেন তার মানে আপনি এর গুরুত্ব ও বোঝেন। তো আপনি কি জানেন এই বীর্যপাত সম্পর্কে?
কেউ বলবেঃ এটা পুরুষের একটা প্রকৃতিগত নিয়মমাফিক কাজ। বা কেউ বলবে এটা সন্তান বা মানুষ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। বাহ্ আপনি তো তাহলে খুব ভালো ভাবেই জানেন সবকিছু। আপনাকে অভিনন্দন। তা আপনি মেয়েদের মাসিক বা পিরিয়ড কেনো হয় জানেন? জানেন না?
কেউ হয়তো বলবে এতে জানার কি আছে বা কেউ দেবে লজ্জাজনক কিছু উত্তর। মেয়েরা হয়তো এ ব্যপারে কথাই বলতেই চাইবে না।
এবার আমার কিছু কথা আছে। পুরুষ যদি তার বীর্যপাতের কথা খোলামেলা বলতে পারে, মেয়েরা কেনো পারবেনা তার এই অনিবার্য বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে। আপনি যদি এটা জেনে থাকেন যে কেনো পুরুষের বীর্যপাত হচ্ছে তাহলে অবশ্যই আপনাকে এটাও জানতে হবে মেয়েদের কেনো পিরিয়ড হয়। আপনি পুরুষের ১০/১৫ মিনিটের সুখ বলেন বা পরিশ্রমকে যদি সন্তান উৎপাদনের মূল কাজ বলে সম্মোধন করতে পারেন তবে কেনো একটা মেয়ের জীবনে অর্ধেক সময়েরও বেশী সময় ধরে যে নিজেকে তৈরী করে আরেকটা মানুষ জন্মের কাজে তাকে লজ্জা বলে ফেলে রাখছেন ঘরের কোনে।
আজকের যুগেও কোনো মেয়েকে ডাক্তারের দোকানে পিরিয়ড প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গেলে পরতে হয় লজ্জায়। দোকানীরা এমন ভাবে তাকায় যেনো মেয়েটা তার কাছে তার বাচ্চার মা হওয়ার পারমিশন চাইছে আজব তো। একটা ছেলে যে কিনা বিয়েই করে নি সেও যদি নিজের শখে দোকানে গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ দ্রব্য কিনতে পারে তবে একটা মেয়ে কেনো তার জীবনের বিকল্পহীন জিনিসটা লুকিয়ে কিনবে।
আপনি জানেন মেয়েদের পিরিয়ড না হলে কি হয়? আপনি জানেন মেয়েদের পিরিয়ড সময়ে কতটা কষ্ট হয়? নিশ্চই জানেন না।
আপনারা হচ্ছেন এখনো সেই সমাজ যেখানে ছেলেরা টাকার জন্য গোপনে হাসপাতালে গিয়ে বীর্যদান করে আসলেও তাকে বলবেন প্রফেশনাল আর একটা মেয়ে টাকার অভাবে বা চিকিৎসার অভাবে মা না হতে পারলে বলবেন বন্ধা।
আমার লেখাটা এভাবে লেখার জন্য আমি দুঃখিত কিন্তু বাধ্য হলাম লিখতে। কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলতো বাধ্য হলাম। গতকাল বাবার জন্য ঔষধ কিনতে আমাদের বরিশালের সদর রোড নামক একটা জায়গায় এক সনামধন্য এক দোকানে গিয়ে দেখি অনেক ভীড়, তার মাঝে একটা মেয়ে হয়তো ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ে এমন হবে। আমি দাঁড়িয়ে দেখছিলাম মেয়েটা একটা কাগজে কিছু একটা লিখে এনেছে সেটা দোকানী দিয়ে বার বার বলছে ভাইয়া এটা দিন৷ কিন্তু সেই লোক সেটার মজা নিচ্ছে সে বার বার বলছেঃ আপু লেখা বুঝিনা জোড়ে বলেন৷ পাশে আরো কিছু লোক সেটা আড়চোখে দেখছে আর হাসছে। আমি এক পর্যায়ে মেয়েটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম৷ দোকানীকে আমার ঔষধের লিস্টটা দিলাম, সে আমার ঔষধ গুলো বার করছিলো। মেয়েটা তখনো অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলো আর ঐ জানোয়ার গুলো মজা নিচ্ছিলো। আমি তখন মেয়েটাকে বললাম আপু কাগজ টা দাও তো কাগজ টা হাতে নিয়ে দেখি খুব সুন্দর গোটা গোটা হাতের লেখায় লেখা আছে “সেনোরা বেল্ট সিস্টেম” ন্যাপকিন।
একবার দেখেই আমার বুঝতে একটুও সমস্যা হয়নি, কিন্তু ওদের খুব অসুবিধা হচ্ছিল। আমি তখন যে দোকানি লেখাটা বুঝতে পারছিলো না তাকে ডাক দিলাম বললাম ভাইয়া এদিকে আসেন। সে আসল বললঃ জ্বী আপা। আমি একটু জোড়েই বললাম ভাইয়া একটা সেনোরা বেল্ট সিস্টেমের প্যাকেট দেন তো। সে হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে সাথে পাশের লোকজন ও আমি তখন আরো জোড়ে বললাম ভাইয়া বুঝেন নাই? সমস্যা হচ্ছে বুঝতে? জোড়ে বলব? আমি সেনোরা বলছি, সে-নো-রা, এবার বুঝেছেন?
ঐ যে আপনার মাথার উপরে উল্টা দিকে কনডমের পাশের তাকে গোলাপি প্যাকেট ওটা৷ ঐ লোক এবং পাশের সবাই বাকরোধ করে শুনছিলো। তারপর একজন তাড়াহুড়া করে পেপারে মুড়িয়ে এনে দিলো। আমার পাশে মেয়েটা মাথা নিচু করে ছিলো। যে লোক ঐ লেখাটা বোঝেনি আসার আগে ওনাকে ডেকে সবার সামনেই জোড়েই বললাম, আসলে সুযোগ পেয়ে নিজের ক্ষোভ টাও ঝাড়লাম৷ বললামঃ ভাইয়া আপনার বোন আছে? মা আছে বাসায়?
সে বলল জী আপা আছে।
:তো তারা পিরিয়ড হয় না?
সে লোক চুপ।
:ভাইয়া তাদের জন্য নিশ্চয়ই আপনিই প্যাড নিয়ে যান! তখন কি দেবার সময় প্রশ্ন করেন যে আম্মা বা আপু কি হয়েছে তোমাদের জোড়ে বলো না হলে দিতে পারবো না। তবে অন্য মেয়েদের নিয়ে কেনো এতো তামাশা আপনাদের। ওরা আপনার মা বোন না বলে। মনে রাখবে কাল আপনারও মেয়ে হতে পারে৷ তখন তার কোথায় কখন কি লাগবে তার নিশ্চয়তা নিশ্চয়ই আপনার কাছে নেই। তাই অন্যদের হেনস্তা করার আগে নিজের ঘরের মেয়েদের কথা একবার ভাবুন। আর এতো যদি লজ্জা লাগে তাহলে কাল থেকে যৌন সংক্রান্ত সব জিনিস ঢেকে বিক্রি করুন, আর মেয়েদের দোকানে আসলে বলবেন একটা মাইক নিয়ে আসতে।
দোকানী মাথা নীচু করে ছিলো সাথে আশেপাশের সবাই চুপ। আমি মাথা উঁচু করেই বের হলাম সাথে ঐ মেয়েটাও।
আমি কাউকে ছোট করছি না শুধু বলছি মেয়েদের একধাপ এগিয়ে আসতে আর ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে।
Collected from : Akhi Debnath

SHARE