জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ডাইনিংয়ের অস্থায়ী কর্মচারীদের মধ্যে অনেকের চাকরি ৩৫ বছরেও স্থায়ী হয়নি। বুধবার ডাইনিং কর্মচারী সমিতি অস্থায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মিছিল করে। এছাড়া সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংযুক্তিসহ উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, অনেক কর্মচারী প্রায় ৩০ বছর ধরে একই পদে কর্মরত কিন্তু এখনও অনেককে স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আরও উল্লেখ করা হয়, ডাইনিং ভর্তুকি কম থাকায় খাবারের মান খারাপ হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাধ্য হয়ে বাইরে খায়। দিন দিন হলের ডাইনিংগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও স্মারকলিপিতে তাঁরা দুই দফা দাবি পেশ করেন। প্রথমটি ডাইনিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে এবং ডাইনিংয়ে খাবারের মান বাড়াতে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য বিকেল ৩টায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ডাইনিং কর্মচারী সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এসময় অনেক কর্মচারী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে কাজ করেন রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, আমি ৫০ টাকা বেতনে কাজ শুরু করি, ক্যাফেটেরিয়ায় শুরু থেকেই আমি কর্মরত। আমার সাথের কয়েকজন কর্মচারী মারা গিয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার চাকরি স্থায়ী হলো না। মৃত্যুর আগে আমি আমার চাকরি স্থায়ী দেখে যেতে চাই।

আলবেরুনী হলের আরেক ডাইনিং কর্মচারী আবুল খায়ের বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে চাকরি করে এখনো মাত্র ৮ হাজার ৪৮০ টাকা পাই। আমার সংসার, ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা, চিকিৎসা কিভাবে চলবে।

অন্যদিকে অস্থায়ী ডাইনিং কর্মচারী সমিতির চাকরি স্থায়ীকরণ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অপরিহার্য অঙ্গ, তবুও ডাইনিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী হচ্ছে না। তাঁরা ৪ হাজার ৮০০ টাকা বেতনে অস্থায়ীভাবে চাকরি করে, এই বেতন তাঁদের জন্য তামাশা মাত্র। আমরা অবিলম্বে অস্থায়ী ডাইনিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার দাবী করছি এবং আন্দোলনে তাঁদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

SHARE